Header Ads

Header ADS

দুঃখী মায়ের গল্প - মোঃ রাজা খাঁন

দুঃখী মায়ের গল্প
মোঃ রাজা খাঁন 

 

কোন এক গ্রামে বাস করত একজন দুঃখী মা। দুঃখী মায়ের বিয়ে হয়েছিল এক দরিদ্র কৃষকের সঙ্গে। বিয়ে হওয়ার চল্লিশ বছর পর একটি ছেলে সন্তান হয়। ছেলে সন্তান হওয়াতে সে অনেক আনন্দ দিন কাটাচ্ছেন। সেই আনন্দের দিন দুই বছর ফেরতেই না ফেরতেই তার স্বামী মারা যায়। তখন তার জীবনে এক পাহাড় সমতুল্য দুঃখের সম্মুখিন হয়ে পড়ে। তখন সেই দুঃখী মায়ের ছেলের বয়স মাত্র দুই বছর। দুঃখী মা তখন অনেক চিন্তা মগ্ন হয়ে পড়ে। এক দিকে ছেলে অন্যদিকে দুঃখের সংসার কি করবে ভেবে কোল পাচ্ছিল না।আবার তার নিজস্ব আপনজন বলছে অন্য একটা বিয়া করার জন্য কিন্তু দুঃখী মা তার ছেলেকে রেখে বিয়ে করতে চায় না। এইভাবে খেয়ে না খেয়ে ছেলের বয়স হয়ে যায় তিন বছর। মা তখন ছেলের মুখে দিকে তাকিয়ে অঝোরে চোখের অশ্রুতে ভাসতে লাগল। মা তখন ছেলের মায়াতে আসক্ত হয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেননি। সেই দুঃখী মা ছেলেকে নিয়ে দুঃখের সাগর পাড়ি দিতে লাগল। দুঃখী মায়ের ঘরে একবেলা খাবার থাকলে দ্বিতীয় বেলার খাবার থাকে না। তখন তার চারপাশের আপন জনে সাহায্য করত। কিছুদিন সাহায্য করার পর কেউ আর সাহায্য দিতে চায় না। দুঃখী মা কারো কাছে লজ্জায় সাহায্য চায় না তখন ছেলের বয়স হয় পাঁচ বছর। তখন মা চিন্তা করে এইভাবে আমার ছেলেকে মানুষ করা সম্ভব না। তখন মা সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে পাড়ায় পাড়ায় ভিক্ষা করবে। তখন ছেলেকে পাশের বাড়িতে রেখে সে ভিক্ষা করতে থাকে। সারাদিন ভিক্ষা করে চাল ডাল নিয়ে ঘরে ফিরে এইভাবে তার ছেলের বয়স হয়ে যায় আট বছর। তখন তার ছেলেকে স্কুলে ভর্তি করতে নিয়ে যায়। স্কুলে ভর্তি করার পর চার বছর পরে ছেলে চূতুর্থ শ্রেণীতে পড়ে। পঞ্চম শ্রেণীতে উঠার সময় স্কুল থেকে কিছু টাকা চায় কিন্তু দুঃখের বিষয় মায়ের কাছে টাকা না থাকায় স্কুলে টাকা দিতে পারেনি , তথা ছেলের পড়াশোনা এখানে সমাপ্ত হয়ে যায়।আর মায়ের জীবন ভিক্ষা করেই চলছে। এইভাবে ছেলের বয়স হয়ে যায় বাইশ বছর। মা ভিক্ষা ও ছেলে দৈনিক কাজ করে তাদের কিছুটা সুখের দেখা পেল। সুখের সন্ধান পেয়ে ছেলে তার মাকে ভিক্ষা করতে নিষেধ করেন ছেলে নিজেই কর্ম করে সংসারের হাল ধরে। এইভাবে আরও তিনটি বছর চলে যায় ছেলের বয়স তখন পঁচিশ বছর হয়। পঁচিশ বছর বয়সে তার মায়ের পছন্দে ছেলে বিয়ে করেন। বিয়ে করে ছেলে ও মায়ের জীবন বেশ ভালোই কাটে। বিয়ের দুই বছর পর একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। দুঃখী মায়ের ছেলের কন্যার বয়স যখন পাঁচ বছর বয়স হয় তখন ছেলের বউয়ের সঙ্গে পারিবারিক ঝগড়া হয়। ঝগড়া হওয়ার ফলে এক পর্যায়ে কন্যা সন্তান রেখে বউকে তালাক দেন। তখন দুঃখী মায়ের কপালে আবার দুঃখ নেমে আসে।ছেলের বউকে তালাক দেওয়ার এক বছর পর ছেলেকে আবার দ্বিতীয় বিয়ে করানো হয়। বিয়ে করার পর বেশ কিছুদিন ভালোই চলছিল কিন্তু দুঃখী মা এবার অনেকটা বৃদ্ধ হয়ে পরে। বৃদ্ধ হওয়াতে ছেলের বউ তার কথায় বেশি মুল্য দেন না। দ্বিতীয় বউয়ের দুটি ছেলে ও একটি মেয়ে সন্তান হয়। প্রথম বউয়ের কন্যা সন্তান নিয়ে চার সন্তান হয়। হঠাৎ তাদের ঘরে দ্বিতীয় বউয়ের একটি কানের দুল হাড়িয়ে যায়। তখন প্রথম বউয়ের কন্যাকে দোষী করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। কন্যাটি অনেক কান্নাকাটি করে তার মায়ের কাছে চলে যায়। হঠাৎ করে দুঃখী মা অসুস্থ হয়ে পরে। কিন্তু সেই শত আশার শত কষ্টের সেই ছেলে তার তেমন চিকিৎসা করেনি ও ছেলের বউয়েও তেমন যত্ন করে না। দুঃখী মা তখন বিনা চিকিৎসা ও অযত্নে বেশ কিছুদিন বিছানায় পড়ে শরীরে পোকা পর্যন্ত ধরেছে।সেই অবস্থায় থেকেও দুঃখী মা তার ছেলের মঙ্গল কামনা করেছে। কিন্তু ছেলের টাকা থাকা সত্বেও চিকিৎসা করেনি। বিনা চিকিৎসায় ও অযত্নে দুঃখী মায়ের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।



No comments

Powered by Blogger.